Header Ads

চিনা-বাতি বর্জনে অভিনব উদ্যোগ বালুরঘাটের যুবক যুবতীদের

স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: চলছে বাঙালির উৎসবের মরশুম। উৎসব প্রায় শেষের মুখে। তবুও শেষমুহূর্তের উৎসবের আনন্দের স্বাদ চেটেপুটে নিতে প্রস্তুত আমবাঙালি। তাইতো বাঙালির আলোর উৎসবকে আরও আলোকিত করে তুলতে বাজারে হাজির বিভিন্ন ধরনের আলোর বাতি। কিন্তু এবার এই বাতি নিয়েই অভিনব উদ্যোগ নিতে দেখা গেল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাকে।

আলোর উৎসবকে কেন্দ্র করে কলকাতা থেকে শুরু করে মফঃস্বলের সবজায়গার বাজারে ছেয়ে গিয়েছে চিনের তৈরি লাইট ও ইলেকট্রনিক প্রদীপ। কালীপুজোর অনেক আগে থেকেই ইলেকট্রনিক এই চিনা দ্রব্য গুলিতে সেজে ওঠে বাড়িঘর ও বিভিন্ন জায়গা। এমনকি মন্ডপ সজ্জাতেও সেগুলি ব্যবহত হচ্ছে আজকাল।

বাজারে চিনা দ্রব্যের বাড়বাড়ন্তে হারিয়ে জেতে বসেছে বাংলার মাটির প্রদীপ শিল্প। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন কুমোররা। আর প্রাচীন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের পাশে দাড়িয়ে পরিবেশ সুরক্ষার কাজে পথে নেমেছে বালুরঘাটের কিছু যুবক-যুবতী। জানা গিয়েছে, তাঁরা মাটির প্রদীপ বিক্রেতা তথা কুমোরদের কাছ থেকে সমস্ত প্রদীপ কিনে নিয়ে তার সঙ্গে আকর্ষনীয় উপহার সহযোগে সাধারণ মানুষের কাছে নায্য দামে বিক্রি করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন প্রদীপ নির্মাতা ও বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে তেমনই চিনের তৈরী ইলেকট্রনিক বাতির ব্যবহার ছেড়ে ফের মাটির প্রদীপের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন – পলাতক মালিকদের গ্রেফতার ও বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভে চা শ্রমিকরা

দিওয়ালী উৎসব উপলক্ষ্যে প্রদীপের ব্যবহার শুধু পিতৃপুরুষদের নামে বাতি জ্বালানোর জন্যই নয়। এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্যও রয়েছে। মাটির এই প্রদীপের আগুনে দ্বারা ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব কমানোও অন্যতম লক্ষ্য। প্রদীপের শিখায় আকর্ষিত হয়ে মাঠঘাট থেকে পোকামাকড় ছুটে এসে আগুনে পুড়ে মারা যায়। ফসল তথা পরিবেশের সুরক্ষায় খুবই কার্যকরী ছিল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও চিনা দ্রব্যের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন আর কালীপুজো বা দেওয়ালিতে মাটির প্রদীপের ব্যবহার করেন না। যার ফলে গ্রামের কুমোরদের তৈরি এই শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। পাশাপাশি পোকামাকড়ের উপদ্রপবও অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপরেও।

জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সাধারণের মধ্যে উৎসবের দিনে মাটির প্রদীপের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছেন বালুরঘাটের কিছু যুবকযুবতী। ‘গিভ মোর লিভ মোর’ নামে নিজেরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে ‘প্রজেক্ট রোশনী’ নাম দিয়ে সর্ষের তেল ও কাপড়ের পলতে নিয়ে পথে নেমেছেন তাঁরা। শনিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন বাজার এলাকায় গিয়ে কুমোর ও প্রদীপ বিক্রেতাদের কাছ থেকে তাঁদের দাবি মতো টাকায় প্রদীপ গুলি কিনে নিয়ে তা বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে সাধারণের মধ্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু প্রদীপ বিক্রিই নয়, এক্ষেত্রে প্রতি একশো প্রদীপ পিছু জ্বালানি বাবদ উপহার স্বরূপ পলতে ও দুইশো মিলিগ্রাম করে সর্ষের তেলও হাতে তুলে দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে বাড়িতে বসে তেল ও পলতে উপহার সহযোগে মাটির প্রদীপ পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষও। ‘গিভ মোর লিভ মোর’-এর যুবকযুবতীদের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার সকলেই।

বালুরঘাটের ব্রিজকালীপাড়ার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষিকা শিখা সাহা চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও বাংলার প্রাচীন এই প্রদীপ শিল্পের সাথে জড়িত মানুষদের জন্য কিছু করার এই ভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগে অবশ্যই বালুরঘাটে এবার মাটির প্রদীপের ব্যবহার বাড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রদীপের আলোতে শুধু পোকামাকড়ই অত্যাচারই নয় ঘুচে যাবে কুমোরদের অসহায়তাও’।

‘গিভ মোর লিভ মোর’-এর সদস্য সুচেতনা ব্যানার্জি ও গোপাল সাহা জানিয়েছেন যে, তাঁদের একটাই লক্ষ্য কুমোর তথা মাটির প্রদীপ বিক্রেতাদের পুরাতন বাজার ফিরিয়ে দেওয়া। কারন কেউ কেউ নিয়মরক্ষার্থে চোদ্দ বাতি জ্বালালেও অধিকাংশই ইলেক্ট্রনিক বাতির ব্যবহারই বেশি করে করছেন। এতে একদিকে যেমন কুমোরদের তৈরি মাটির প্রদীপ শিল্প মার্ খাচ্ছে। তেমনই কর্মহীন হয়ে পড়ছেন কুমোররা। পরিবেশের সুরক্ষার ও মাটির প্রদীপ শিল্পীদের রুজি বাড়ানোর লক্ষ্যেই তাঁদের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন। তাঁদের এই অভাবনীয় অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে ভোলেননি সমাজের গনমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষজন।

The post চিনা-বাতি বর্জনে অভিনব উদ্যোগ বালুরঘাটের যুবক যুবতীদের appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper
Source Url: https://www.kolkata24x7.com/youth-boys-and-girls-take-new-step-refuge-china-light-at-balurghat/

No comments

Powered by Blogger.