Header Ads

b

আজকের দিঘা আবিষ্কার করেছিলেন কে….

দিঘার সৈকতে একটু সময় কাটায়নি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমুদ্রের অমোঘ টানে আপামর বাঙালি বারবার ছুটে এসেছে এই সৈকত শহরে। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমনকী সেলুলয়েডেও বহুবার ধরা দিয়েছে এই সৈকত শহরের সৌন্দর্য। দিঘা পশ্চিমবঙ্গের একটি জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট। দীঘার ওপর বিগত বেশ কিছু বছর এত ট্যুরিস্ট এর চাপ বেড়েছে যার ফলে দিঘা থেকে মাত্র ২ কিমি দুরে গড়ে উঠেছে “নতুন দিঘা” বা যা “নিউ দিঘা” নামে বেশি পরিচিত। এবার একটু দিঘার ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা যাক।

তখন বাংলার ভাগ্য বিধাতা ব্রিটিশরা এবং বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস। বলা হয় তিনিই নাকি আজকের দিঘার আবিষ্কর্তা। তখন অবশ্য দীঘার নাম দিঘা ছিলনা। ১৭৮০ সালের বেঙ্গল গেজেট এ বিরকুল নামক এক গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায় যেটা মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত। যেখানে বর্তমানের দিঘা অবস্থিত। যতই ওয়ারেন হেস্টিংস তার আবিষ্কর্তা হন না কেন, আজকের দিঘা, দিঘা হয়ে ওঠার পেছনে যার সব থেকে বেশি অবদান, তিনি হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায় মহাশয়। এটা অবশ্য ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীন হওয়ার পরের কথা।

কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রেমানন্দ প্রধান তাঁর ‘হিজলিনামা’ বইতে জানিয়েছেন, অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সেটলমেন্টের রেকর্ডে বীরকুল নামে ওড়িশার জলেশ্বর চাকলার অধীনে থাকা একটি পরগনার উল্লেখ ছিল। ১৬৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ভ্যালেন্টিন ও ১৬৬৮ সালের টমাস বৌরির মানচিত্রে বতর্মান কাঁথি মহকুমা শহর থেকে ২৪ মাইল দূরে দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তে ‘নরিকুল’ বলে একটি সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের অস্তিত্ব নজরে আসে। ১৭০৩ সালে পাইলট মানচিত্রে ‘নরিকুল’ জায়গার পাশেই ‘বিটকুল’ নদীর অবস্থান দেখা যায়। পরে রেনেলের মানচিত্রে নরিকুলের জায়গায় বীরকুলের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

ইতিহাস বলছে, ১৭৭৫ সালে হেস্টিংস বীরকুলের মনোরম সমুদ্র সৈকতে গরমের ছুটি কাটানোর জন্য একটি বাংলো তৈরি করেন। প্রাকৃতিক পরিবেশে ইংরেজদের মাছ ধরা, সমুদ্রস্নান-সহ বিনোদনের জন্য বীরকুলের সৈকতে বিশ্রামাগার তৈরির পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেন। এই জায়গাটিকেই হেস্টিংস বলতেন ‘ব্রাইটন অফ ক্যালকাটা’৷ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ আধিকারিকরা সস্ত্রীক বীরকুলে ছাউনি ফেলতেন। পরবর্তীকালে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস আর ভূমিক্ষয়ে বীরকুল ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়। এমনকি হেস্টিংসের অবসর বিনোদনের বাংলোটিও পরে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

১৯২৩ সালে কলকাতার জুয়েলারি ও ঘড়ি তৈরির প্রসিদ্ধ হ্যামিলটন অ্যান্ড কোম্পানির মালিক জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে আর রামনগরের বালিসাইয়ের বাসিন্দা এক খদ্দেরের কাছ থেকে বীরকুলে দিঘা সৈকতের কথা জানতে পারেন। নেহাতই কৌতুহলবশে হাতির পিঠে চেপে বীরকুলে এসে সৈকতের সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে যান তিনি। সমুদ্রপাড়ে ১১.৫ একর জমি লিজ পেয়ে সেখানেই রানসউইক হাউস তৈরি করেন তিনি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দিঘাকে সৈকত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ আবেদন জানান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাছে। ধীরে ধীরে তৈরি হয় সৈকতাবাস, জল সরবরাহ-সহ নানা ব্যবস্থা। ১৯৬২ সালে বিধানচন্দ্র রায়ের মায়ের নামে ‘অঘোরকামিনী’ স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হয়।
স্নেইথ সাহেবও বছরের ছ’মাস এই সৈকত শহরে থাকতেন। বাকি সময় থাকতেন শিলঙে। সেখান থেকে তিনি বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে প্লেনে চেপে আসতেন দিঘায়। সৈকতে প্লেন ওঠানামা দেখতে ভিড় জমাতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পযর্টকরা যাতে সরাসরি সড়ক পথে দিঘায় আসতে পারেন তার জন্য কলকাতা-দিঘা সড়ক তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

১৯৬৪ সালে মারা যান দিঘার প্রথম আবাসিক জন ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ। রানসউইক বাংলোতেই কবর দেওয়া হয় তাঁর দেহ। পরে রানসউইক বাংলো বিক্রি হয়ে যায়। দিঘা ঢোকার মুখে সদ্য নির্মিত প্রবেশ তোরণ পেরিয়ে কিছুটা এগোলেই রাস্তার বাঁ দিকে চোখে পড়বে রানসউইক হাউস। বর্তমানে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহৃত এই ভবন বহু ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। ভবনের সুবিশাল প্রান্তরের এক প্রান্তে রয়েছে স্নেইথ সাহেবের সমাধি। প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর রানসউইক হাউসে স্নেইথের সমাধিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

The post আজকের দিঘা আবিষ্কার করেছিলেন কে…. appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper
Source Url: https://www.kolkata24x7.com/who-discovered-todays-digha/

No comments

Powered by Blogger.