খাবারের একটা ভিন্ন জগত ছিল ভোজনরসিক রবীন্দ্রনাথের

সাহিত্য ও শিল্প জগত ছাড়াও বিশ্বকবির আরও একটি বিশেষ আগ্রহের জায়গা ছিল। সেটি হল খাবার। রবীন্দ্র অনুরাগীরা জানবেন, তিনি কতটা খাদ্যরসিক ছিলেন। সারা জীবনে বহু দেশ বিদেশে ঘুরেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেসব জায়গার সংস্কৃতির সঙ্গে খাবারের ধরন কেমন, তা নিয়েও তাঁর ছিল বিরাট আগ্রহ। বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে প্রথম দেশভ্রমণে বেরোন। এর পরে থেমে থাকেনি তাঁর ভ্রমণ তালিকা। আর সেই সব জায়গায় গিয়ে খাবারের স্বাদ পরীক্ষানিরীক্ষা করতে ভুলতেন না রবি ঠাকুর।

এমনকি জানা যায়, দেশ বিদেশের রান্নার খোঁজ নিয়ে এসে সেগুলিরকে ঠাকুরবাড়িতেও চালু করতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীও ছিলেন রান্নায় দক্ষ। তাই রসনা তৃপ্তিতে কখনও ঘাটতি হয়নি কবিগুরুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতেও ভালোবাসতেন। আর সেই খাবারের পদ অধিকাংশ সময়ই তিনি ঠিক করে দিতেন। তাতেও থাকত বিশেষত্ব।

একবার ঠাকুরবাড়িতে খাওয়াদাওয়ার উৎসব। নেমন্তন্ন করেছেন খোদ কবি। বাড়িশুদ্ধ খুব ব্যস্ততা। সবুজকলি সেনের মর্মের গেহিনী কবিপত্নী মৃণালিনী থেকে জানা যায়, সেবার কবি তাঁর স্ত্রীকেই ফরমাস দিলেন যে, খাওয়ানোর নতুন করম ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন ধরনের রান্না কী ভাবে রাঁধতে হবে তাও বলে দিতে লাগলেন। মৃণালিণী দেবীও তাই করতে লাগলেন। মানকচুর মুড়কি ও মানকচুর মালপোয়া রান্নায় তাঁর ছিল বিশেষ দক্ষতা। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন তাঁর হাতের চিঁড়ের পুলি ও দইয়ের মালপোয়া ও পাকা আমের মেঠাই যিনি খেয়েছেন, তিনি আর কখনওই সেই স্বাদ ভুলতে পারবেন না। স্ত্রীর হাতে তৈরি মিষ্টি খুব পছন্দ করতেন কবি।

তবে খাবারের নাম নিয়েও নাকি বেশ খুঁতখুঁতে ছিলেন তিনি। প্রয়োজনে খাবারের নতুন নামকরণ করতেন তিনি। একদিন রবীন্দ্রনাথকে একটা মিষ্টি তৈরি করে খাওয়ালেন মৃণালিনী। ওই মিষ্টির নাম বাঙাল ভাষায় এলোঝেলো শুনে নাক সিঁটকোলেন রবীন্দ্রনাথ। তারপর তার নাম রাখলেন পরিবন্ধ।

চা নিয়েও সৌখিন ছিলেন কবি। তিনি জাপানের চা পছন্দ করতেন। যখনই জাপান যেতেন, চা নিয়ে আসতেন তিনি। জাপানে গিয়ে সেখানকার মানুষের টি সেরিমনিও বিশেষ পছন্দ ছিল কবির।

যেদিন গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় সেদিন লন্ডনে ইন্ডিয়ার সোসাইটির অনুষ্ঠানে খাবারের পদ ঠিক করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই তালিকায় ছিল- গ্রিন ভেজিটেবল স্যুপ, ক্রিম অব টমেটো স্যুপ, স্যামন ইন হল্যান্ডেন সস এ্যান্ড কিউকামবার, প্রি সলটেড ল্যাম্ব উইথ গ্রিন ভেজিটেবল, রোস্ট চিকেন, ফেঞ্চ ফ্রাই, গ্রিন স্যালাড ও আইসক্রিম।

তবে বাড়িতে তেল মশলা সমেত কষা খাবার খেতেই ভালোবাসতেন। তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে ছিল, পাঁঠার মাংস বিশেষ পছন্দ ছিল তাঁর। এছাড়া কাঁচা ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগের ডাল, নারকেল চিংড়ি এবং নানা রকমের কাবাব খেতে ভালোবাসতেন তিনি।

The post খাবারের একটা ভিন্ন জগত ছিল ভোজনরসিক রবীন্দ্রনাথের appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper
Source Url: https://www.kolkata24x7.com/rabindranath-tagore-loved-to-experiment-with-food/

Post a Comment

0 Comments