বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি হ্রাসের জন্য সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি এবিভিপি’র

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : করোনা ভাইরাস ঠেকাতে গত ১৬ মার্চ থেকে বন্ধ রাজ্যের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংক্রমণের হার যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কবে সফলভাবে পুনরায় চালু হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এমতাবস্থায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি হ্রাস করে সেই দাবী নিয়ে নেমেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি।

তাঁদের দাবি, ‘ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ইতিপূর্বেই শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্ত রকম ফি মুকুব, হোস্টেল ফি মুকুব, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি হ্রাস সহ মোট ১২ দফা দাবী নিয়ে এবিভিপি দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে মাননীয় রাজ্যপালের হাতে স্মারকলিপি প্রদান এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে মেইল মারফত প্রতিলিপি পাঠিয়ে আমাদের দাবীগুলো জানানো হয়।’

এরপরেই শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোকে ফি হ্রাস করার জন্য আবেদন করলেও বাস্তবে তা সব জায়গায় সঠিকভাবে রূপায়িত হয়নি। এবিভিপির দাবি, বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা আজ অভিযোগ করছেন যে, ‘অনলাইন পেমেন্টের লিঙ্ক বন্ধ থাকার কারণে ফি জমা দিতে পারেননি অথচ উল্টে তাদের কাছ থেকেই লেট ফাইন নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকা সত্ত্বেও টিউশন ফি, ইলেকট্রিক বিল, জেনারেটর, ডেভলপমেন্ট, এসি চার্জ এমনকি ক্লিনিং চার্জ পর্যন্ত ধার্য করছে। ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসও করেনি অথচ সমস্ত বাড়তি খরচ চড়াহারে ছাত্রছাত্রীদের থেকে আদায় করা হচ্ছে। ঠিক এইসব কারণেই অভিভাবকরা আজ কখনো ধর্মতলায় তো কখনো আনোয়ার শাহ রোড অবরোধ করছেন। আবার কোথাও বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালকে আটকে রেখেও প্রতিবাদ করছেন। চিত্রটা যে শুধু কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তা নয়। গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মধ্যে আন্দোলন চলছে।’

এই প্রসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জন সরকার বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সেই প্রতিষ্ঠানে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক উভয় পক্ষকেই এই করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে নমনীয় হতে হবে। করোনার কামড়ে অনেক অভিভাবকদের উপার্জনে একটা আঘাত নেমে এসেছে। সেক্ষেত্রে যে ছাত্রছাত্রীর পরিবার মাসিক বেতন দিতে পারবে না, তাদের কথা কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে হবে। ঠিক একই ভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মাসিক বেতন নিয়ে সমস্যায় পরতে না হয় সেটাও কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে।এবং সেই সাথে রাজ্য সরকারকেও একটা সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।’

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘আজ যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিভাবকরা আন্দোলনে নামছেন তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায় আগামীদিনে প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাটাও ভেঙে পড়তে চলেছে। অথচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। তাই বিদ্যার্থী পরিষদ জানতে চায় কেন এখনও পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কোনও প্রকার সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে না? কেন এখনও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের আধিকারিকদের নিয়ে রাজ্যে সরকার কোনও গঠনমূলক আলোচনায় বসছেন না? বিদ্যার্থী পরিষদ স্পষ্ট ভাবে জানাচ্ছে যদি রাজ্য সরকারের অবহেলার কারণে পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়াদের ভবিষ্যত নষ্ট হয় তাহলে সরকারকে ছেড়ে কথা বলবে না এবং আগামীদিনে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীদের একত্রিত করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

The post বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফি হ্রাসের জন্য সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি এবিভিপি’র appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper
Source Url: https://www.kolkata24x7.com/abvp-protest-against-free-hike-in-private-schools/

Post a Comment

0 Comments